ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনুষ্ঠিত ওআইসি নির্বাহী কমিটির বিশেষ বৈঠকের ফাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রভাবশালী পাঁচটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
এসব আলোচনায় ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক চলাকালীন বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও বেগবান হবে। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পূর্ণ সমর্থন প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করা হয়। ইসহাক দার গত বছরের সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন যখন তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি আরও জানান যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বর্তমান সরকারকে শুভেচ্ছা জানাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন। তুরস্কের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ড. খলিলুর রহমান তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য এবং তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই রিয়াদ সফর করবেন।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয় এবং উভয় দেশ একত্রে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো দাবি আবারও উপস্থাপন করেন। ফিলিস্তিন পক্ষ বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন