রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

এপ্রিলেই আসছে হামসহ ৬ রোগের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

এপ্রিলেই আসছে হামসহ ৬ রোগের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় সুখবর জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ইউনিসেফের মাধ্যমে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশে হামসহ ছয়টি বিভিন্ন রোগের টিকা পৌঁছাবে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে দেশে হাম প্রতিরোধে বড় ধরনের কোনো জাতীয় ক্যাম্পেইন বা প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। দীর্ঘ এই সময়ের ব্যবধানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। 

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আমদানির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইউনিসেফকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই এই টিকার চালান দেশে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নার্সিং সেবার মান উন্নয়ন, হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঁচ সদস্যের একটি শক্তিশালী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে এই গ্রুপের কাজের পরিধি ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

দেশে শিশুদের মধ্যে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকায় সরকারিভাবে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ২০টি ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে সব ধরনের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।