মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় চীন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে চীন অংশীদার হতে আগ্রহী।
সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত `ফ্যামিলি কার্ড` কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতেও চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ইচ্ছুক। রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, চীনের উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যদি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তবে তা এ দেশের সমৃদ্ধি ও জনকল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে। চীন বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিক থেকে চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পুরনো বন্ধু।
তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে চীন অনেক দূর এগিয়েছে এবং বিশেষ করে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তিতে তাদের সফলতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। মন্ত্রী বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এই কার্ডকে একটি ডেটাবেজ ভিত্তিক ডিজিটাল সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন যা মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড পরিবারকেন্দ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
এই কর্মসূচিকে পুরোপুরি প্রযুক্তিগত ও আধুনিক রূপ দিতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। একইসঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। চীন যদি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সরাসরি কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ টেকসই স্বনির্ভরতার সুযোগ পাবে।সাক্ষাৎকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীরতর করার লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করাই ছিল এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বৈঠকে উপস্থিত সবাই একমত হন যে, দুই দেশের এই মেলবন্ধন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন