রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

তিন মাসে ফ্যামিলি কার্ড পাবে আরো ৩০ হাজার পরিবার: প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

তিন মাসে ফ্যামিলি কার্ড পাবে আরো ৩০ হাজার পরিবার: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদে নিজের প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি ঘরে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা পৌঁছাতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। 

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসেই আরও ৩০ হাজার পরিবার এই বিশেষ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন। এর আগে গত ১০ মার্চ থেকে দেশের ১৩টি জেলার নির্বাচিত কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছিল। 

বর্তমানে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবার এই কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সঠিক ব্যবহার দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। এর ফলে সহায়তার অর্থ সরাসরি খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় হওয়ার সুযোগ বাড়বে। 

সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এটি মূলত তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। এসময় তিনি আবেগঘন কণ্ঠে তাঁর নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য যেমন ধন্যবাদ দেন, তেমনি যারা তাঁকে ভোট দেননি, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের প্রতিও সমান শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তাঁর সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও সংস্কারের এই ধারা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রশাসন। জনকল্যাণমূলক এই কাজগুলো যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সংসদে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ মূলত জনগণের আমানত। দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এই হারানো সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে তাঁর সরকার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থান জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংসদীয় আলোচনায় উঠে আসে।