এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান সংকট ও জনভোগান্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হওয়া এবং জনগণের সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এর জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে `প্যানিক বায়িং` বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনাকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
সংসদে একটি সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি মন্ত্রী এর আগে এক বিবৃতিতে তেলের কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পগুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষ করে সিলেটে পাম্প বন্ধ হওয়ার ফলে রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় স্কুল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন যে, সরকার এই গুরুতর সমস্যাটি স্বীকার করার পরিবর্তে আগের মতোই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সরাসরি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সরকার এই সমস্যাটি আদৌ স্বীকার করে কি না এবং কবে নাগাদ এর যথাযথ সমাধান আসবে।মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এর জবাবে জানানো হয় যে, সরকার প্রতিদিন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনার পর থেকে হঠাৎ করেই বাজারে তেলের চাহিদা ও বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাষ্যমতে, আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করতে একটি পাম্পের অন্তত দেড় থেকে দুই দিন সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল সংগ্রহ করছেন।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন যে, মানুষ যখন প্যানিক বাইং শুরু করে তখন পাম্পগুলোতে ভিড় ও দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়, যা অনেকের কাছে সরবরাহহীনতা মনে হতে পারে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, পেট্রোল বা জ্বালানি তেলের সাপ্লাই প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করে মন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল চাহিদার আকস্মিক বৃদ্ধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে সংসদীয় আলোচনায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন