এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮টি জেলার নির্বাচিত ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এবং যেকোনো সরকারি ছুটির দিন বাদে টানা তিন সপ্তাহ ধরে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে টিকা খাওয়াতে পারবেন।
সংক্রমণের তীব্রতা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত ৩০টি উপজেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ছয় হাজার ৪৭৬ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে মোট ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন এই টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শিশুদের সুরক্ষায় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে সংক্রমণ আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
টিকা দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত বা লক্ষণযুক্ত শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুলও খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই কার্যক্রমে অংশ নেন। কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পাবনা সদরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ঝালকাঠির নলছিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং গাজীপুরে স্বাস্থ্য সচিব এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
আজ যে উপজেলাগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর এবং কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু। এছাড়া ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, শরীয়তপুরের জাজিরা, যশোর সদর, মাদারীপুর সদর এবং মুন্সীগঞ্জের তিনটি উপজেলা এই তালিকায় রয়েছে। উত্তরবঙ্গের নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতেও একযোগে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হবে না। তারা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর টিকা নিতে পারবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, যেসব শিশু আগে টিকা নিয়েছে তারাও এই কর্মসূচির আওতায় পুনরায় টিকা নিতে পারবে যাতে কোনো শিশুই সুরক্ষার বলয় থেকে বাদ না পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৭৮৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৭৬ জনে, যার মধ্যে ৮২৬ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন