এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। গত ২২ জানুয়ারি এই কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বেতন কমিশনের এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের এই বিশাল সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫ এর সুপারিশগুলো পরীক্ষা করে সরকারের কাছে মতামত দেওয়ার কথা ছিল।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে এবং নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনার অভাবে এই পর্যালোচনা কমিটির কার্যক্রম এখন পর্যন্ত গতি পায়নি।সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু করা। সে অনুযায়ী সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছিল।
তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ব্যয়ের কারণে ওই বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য জরুরি খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড়িয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকার একবারে সব সুবিধা না দিয়ে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার পথে হাঁটতে পারে। অর্থাৎ প্রথমে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। ফলে সরকার ব্যয় সাশ্রয়ের নীতি অনুসরণ করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। আজকের বৈঠকেই এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন