রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর বেইলি রোডস্থ সরকারি বাংলোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ সংস্কার এবং মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো অগ্রাধিকার পায়। 

আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে স্বাধীন পুলিশ কমিশন এবং পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া। 

এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া রাতারাতি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বরং এটি একটি ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের বিষয়। 

তিনি আরও জানান যে, পুলিশের পুনর্গঠন, সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি বাংলাদেশকে কারিগরি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার পুলিশ সংস্কারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি জানান যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। বিশেষ করে গত দেড় দশক ধরে সংস্থাটি এই কমিশনের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছে। 

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে যাবতীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এর জবাবে মন্ত্রী জানান, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে।আলোচনায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। 

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের গুম হওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন যে, এই অধ্যাদেশটি আরও অধিকতর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে অধ্যাদেশটির কিছু সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যা গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। তাই এটিকে আরও নিখুঁত করে সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিনিধিদলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এপিবিএন কোনো তদন্তকারী সংস্থা না হলেও ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে সরকার বদ্ধপরিকর।

উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্ম-সচিব রেবেকা খান ছাড়াও ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং রুল অব ল বিষয়ক অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়াইগার উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনা শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের সমন্বয় আরও সুসংহত হবে।