রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

কারা রাজাকার ছিল বলে কাউকে কষ্ট দিতে চাই না: জয়নুল আবদীন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:০২ পিএম

কারা রাজাকার ছিল বলে কাউকে কষ্ট দিতে চাই না: জয়নুল আবদীন

সংসদে জয়নুল আবদীন ফারুক

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে অতীতে কারা রাজাকার ছিল বা কারা বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিতে চান না বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক। রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

জয়নুল আবদীন ফারুক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে মাথার মণি হয়ে আছে। এই গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের পেছনে যারা শ্রম দিয়েছেন, তাদের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদেরও বিশাল আত্মত্যাগ রয়েছে। 

তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আন্দোলনের অবদান নিয়ে কাউকে যেন বিভ্রান্ত করা না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যারা এই সংগ্রাম করেছেন তাদের সম্মানের পাশাপাশি দলের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফারুক বলেন, শপথ গ্রহণের আগেই নেতা জানিয়েছিলেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই সংসদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। 

এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পুনরদ্ধার। এই প্রেক্ষাপটে যারা বর্তমানে জুলাই সনদ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন, অনর্থক বিতর্ক দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।দলের রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত। এই দল দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছে। 

বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং তার কারাবরণকে তিনি গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান নেতৃত্বও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পূর্ণভাবে বজায় রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, নির্বাচনের আগে এক ধরণের কথা বলে পরবর্তীতে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক সততার পরিচয় দেয় না। 

তিনি অতীতের ভোটবিহীন ও একতরফা সংসদের কথা উল্লেখ করে বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, অতীতের সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে দেশ এখন একটি জবাবদিহিমূলক পথে এগোচ্ছে।বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি পুনরায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের ডাক দেন। ফারুক বলেন, জাতীয় বীরদের অবদান এবং জুলাই-আগস্টের চেতনাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে কাউকে আক্রমণ করার চেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত সবাইকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা। কোনো ধরণের বিভ্রান্তি বা বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যই এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।