রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি ঐতিহাসিক বিল পাস হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই বিলের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে চলা সকল আইনি হয়রানি অবসান হতে যাচ্ছে।

অধিবেশনের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলটি সংসদের টেবিলে উত্থাপন করেন। 

বিলটি পাসের ফলে গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা বাতিল বা প্রত্যাহারের পথ সুগম হলো।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি বিধান অনুসরণ করে অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক সব অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। আইনত একে ‘বারিত’ বা নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার নিরাপত্তা ও আইনি দায়মুক্তির বিষয়টি একটি শক্ত ভিত্তি লাভ করল।

উল্লেখ্য যে, আজ জাতীয় সংসদের এই সেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। একই দিনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও আইনি বৈধতা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সুরক্ষা বিল পাসের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া হলো।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই বিল পাসের ফলে মাঠ পর্যায়ে যেসব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা ঝুলে ছিল, সেগুলো এখন সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের প্রক্রিয়ায় চলে যাবে। বিপ্লবের পর থেকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দাবি বিভিন্ন মহল থেকে আসছিল, এই আইনের মাধ্যমে তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটল।