বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আদালতে ফয়সালের কারাদণ্ড

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে থাকা একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন। আদাবর থানায় দায়ের করা এই মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ তার সিদ্ধান্ত জানালেন। 

তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছিল। 

এরপর বিচারক রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ মার্চ পুলিশ তদন্ত শেষে ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। বিচার চলাকালীন মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। 

সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।উল্লেখ্য যে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা শুরু হয়। এই অস্ত্র মামলাটি ছিল সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকা এই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর একটির ফয়সালা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা উপস্থিত থাকলেও আসামিপক্ষের কাউকেই দেখা যায়নি।এখন এই রায় কার্যকর করার জন্য আসামিকে গ্রেপ্তার করা বা তার আত্মসমর্পণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

হাদি হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান অভিযুক্তের এমন সাজা সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও দণ্ডাদেশ সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যাতে সাজা পরোয়ানাটি যথাযথভাবে কার্যকর করা যায়।