বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

অনিয়মের অভিযোগ শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

অনিয়মের অভিযোগ শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন

ভোট বর্জনের ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে চলমান নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালেই প্রার্থীর পক্ষ থেকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

 জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর দাবি, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে বাধা প্রদান এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে তারা এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা অনিয়মের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, ঠিক কী ধরণের অনিয়ম হয়েছে এবং কেন তারা মাঝপথে নির্বাচন ছাড়ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বিকেল ৩টায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখান থেকেই প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে সকাল থেকে মোটামুটি শান্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উত্তজনা তৈরি হয়। আসনটিতে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। 

৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের বিপরীতে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছিল। এর আগে নির্বাচন কমিশন এই আসনের ২৮টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরেও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই ঘোষণা আসার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামায়াত প্রার্থীর এই বর্জনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, আজ একই দিনে বগুড়া-৬ আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দুই আসনেই দলীয় সরকারের অধীনে ভোট নিয়ে আগে থেকেই বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংশয় ছিল। শেরপুর-৩ আসনের এই বর্জন সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।