এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ বগুড়াবাসীর দীর্ঘ দেড়শ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। অবশেষে দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় সশরীরে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত ১৮৬৯ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে টাউন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই শহরের উন্নয়ন যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৮৭৬ সালে ১.২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে গঠিত হয় বগুড়া মিউনিসিপালটি।
সেই সময়ের ডব্লিউ ওয়াভেল কিংবা জো হোয়াইটম্যানের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পৌরসভা দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ একটি মেগাসিটিতে রূপ নিতে যাচ্ছে। ১৯৮১ সালে একে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এখানকার নাগরিকদের।বগুড়া পৌরসভা ভৌগোলিক আয়তন, বিপুল জনসংখ্যা এবং নিজস্ব রাজস্ব আয়ের দিক থেকে সিটি করপোরেশন হওয়ার সব যোগ্যতা অনেক আগেই অর্জন করেছিল। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছিল এবং ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত করা হয়েছিল।
সেই সময়ই একে সিটি করপোরেশন করার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তা থমকে যায়। গত এক দশকে দেশের আরও কয়েকটি পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও বগুড়া অবহেলিত থেকে যাওয়ায় স্থানীয় নাগরিক সমাজের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। তবে বর্তমান সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার প্রস্তাব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তড়িৎ পদক্ষেপে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর পাশাপাশি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রস্তাবগুলোও অনুমোদন পেয়েছে। এই মাইলফলক অর্জনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বগুড়াবাসীর জন্য এক অনন্য উপহার।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী নিজেই বগুড়াবাসীর সামনে সিটি করপোরেশন সংক্রান্ত পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরবেন। সিটি করপোরেশনের মর্যাদাপ্রাপ্তির মাধ্যমে এই জনপদের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার মান আমূল বদলে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন