এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ায় ইরানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) তুরস্কের অ্যান্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরান যে ছয়টি দেশকে বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশকে রাখায় তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ সময় বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ ও ধারাবাহিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধ বা মতপার্থক্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা উচিত এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান যে, ইরান থেকে আজারবাইজানে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে স্থানান্তরে সহযোগিতার জন্য তেহরানকে ইতোমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের এই গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ।
সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি এখনো কিছুটা থমথমে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদির সঙ্গেও এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ বাংলাদেশগামী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। রাষ্ট্রদূত তখন জানিয়েছিলেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তেহরান। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগকেও দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে দেখছে ইরান সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিশ্চয়তা বাংলাদেশের সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন