বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

‘৯৯ শতাংশ পুলিশ সৎ’-আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল সদর দপ্তর

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:০১ এএম

‘৯৯ শতাংশ পুলিশ সৎ’-আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল সদর দপ্তর

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইজিপি দাবি করেছিলেন যে পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও গাণিতিক ভিত্তি পরিষ্কার করতে এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। 

বুধবার রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা আইজিপির ওই বক্তব্যের নেপথ্যে থাকা বার্ষিক তথ্য ও পরিসংখ্যানগত চিত্রটি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে আইজিপির বক্তব্যটি মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিসংখ্যান বা বার্ষিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে অর্থাৎ ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে মোট ৭ হাজার ৮৮২টি অভিযোগ গৃহীত হয়েছে বা অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

বর্তমানে বাংলাদেশে মোট পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪ জন। এই বিশাল জনবলের বিপরীতে বার্ষিক গড় অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭০ দশমিক ৫টি। শতকরা হিসাবে এটি মোট পুলিশ সদস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ।পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে যে যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠানে এক শতাংশের কম সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বরং এই পরিসংখ্যান একটি নিয়ন্ত্রিত ও অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত দেয়। এই হার থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম বেশ সক্রিয় ও কার্যকর রয়েছে। মূলত এই গাণিতিক গড় ও শতাংশের হিসাব থেকেই আইজিপি তার বক্তব্যে ৯৯ শতাংশ সদস্যকে সৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে যে সব অভিযোগই সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেক সময় পারিবারিক সমস্যা, ব্যক্তিগত বিবাদ কিংবা পেশাগত অদক্ষতার মতো বিষয়গুলোও অভিযোগ হিসেবে জমা পড়ে, যা কোনোভাবেই ওই সদস্যের অসততাকে নির্দেশ করে না। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, এই ধরণের অ-দুর্নীতিমূলক বিষয়গুলো যদি মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত দুর্নীতি বা অসততার হার আরও কমে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। অর্থাৎ বাহিনীর একটি বিশাল অংশই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিপুল সংখ্যক সদস্যের মাঝে গুটি কয়েক সদস্যের অনিয়ম বা নৈতিক স্খলনই সাধারণ মানুষের মনে পুরো বাহিনী সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। কিন্তু গভীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যই নিয়মিতভাবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন। আইজিপি মূলত এই প্রকৃত চিত্রটিই সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন বলে সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাহিনীর স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরণের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।