সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশে এক সপ্তাহে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃ‍‍`ত্যু

জাতীয় ডেস্ক

মে ৪, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

দেশে এক সপ্তাহে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃ‍‍`ত্যু

বজ্রপাত বিষয়ক কর্মশালা

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দিন আগে থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে বজ্রপাতে মোট তিন হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় প্রতিবছর বজ্রপাতে বেশি মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। বিশেষ করে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে নাগরিকদের অতি সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই পেশায় কৃষক। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক সময়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হলে এই মৃত্যুর হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে কৃষকদের কাছে দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোকে তিনি জরুরি বলে অভিহিত করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত ৯৫ শতাংশ নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে শুধু পূর্বাভাস দেওয়াই যথেষ্ট নয়, জীবন বাঁচাতে মাঠপর্যায়ের কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে জানাতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি জোর দেন।আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ বজ্রপাত ও আকস্মিক বন্যার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। 

হিমালয়ের পাদদেশ ও বঙ্গোপসাগরের বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে তৈরি হওয়া আর্দ্রতা বজ্রমেঘ তৈরির মূল উৎস। তিনি জানান, মানুষকে সচেতন করতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’ স্লোগানটি নির্ধারণ করেছে।

সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলগুলো বজ্রপাতের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কর্মশালায় চিহ্নিত করা হয়েছে। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা জানান, এসব এলাকায় কৃষক, জেলে ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন। ফসল বাঁচাতে কৃষকদের মাঠে থাকতে হয় বলে তাঁরাই বেশি হতাহতের শিকার হন।

ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, সময়মতো এবং সময়োপযোগী পূর্বাভাস প্রচার করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বুয়েটের অধ্যাপক তানভীর মনজুর পরামর্শ দেন যে, মাঠের কৃষকদের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় তথ্য পৌঁছানোর কৌশল গড়ে তুলতে হবে।