মে ১২, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এমদাদুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হচ্ছে না। বর্তমানে অধিকাংশ সেবা ঘরে বসে বা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতি কমেছে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এক সময় জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা ছিল বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গ্রাহকদের ইউনিয়ন বা উপজেলা ভূমি অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে মুঠোফোনের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, কর পরিশোধ এবং খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক এই সুবিধা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা বিদেশ থেকেই নিজেদের জমির কর পরিশোধ করছেন।
এর ফলে ভূমি অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে গেছে।আগে নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ছিল সবচেয়ে বেশি। ই-নামজারি চালু হওয়ায় এই চিত্র বদলেছে। এখন পর্যন্ত দেশে এক কোটিরও বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় পাঁচ লাখ আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) নাসরিন জাহান জানান, অনলাইনে আবেদনের ফলে সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিটি ধাপে মোবাইল ফোনে এসএমএস নোটিফিকেশন পাঠানোর ব্যবস্থা থাকায় গ্রাহকরা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাচ্ছেন।
কোনো কর্মকর্তা কতদিন ধরে আবেদন আটকে রেখেছেন, সেটিও এখন ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।ভবিষ্যতে জিআইএস বা জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে সব ভূমি রেকর্ড ও মৌজা ম্যাপ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। এই প্রযুক্তি চালু হলে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেবাগ্রহীতাদের সচেতন হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন