রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সামাজিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ আসছে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ কার্ড

জাতীয় ডেস্ক

মে ২০, ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

সামাজিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ আসছে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ কার্ড

ফ্যামিলি ট্রি কার্ড

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা একই ডিজিটাল কার্ডের আওতায় আসবে। একই পরিবার বা ব্যক্তি যেন একাধিক উৎস থেকে একই সুবিধা নিয়ে ‘ডাবল বুকিং’ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য।

একই ব্যক্তি যেন বারবার ভাতা না পান, সেটিই এই কার্ডের বিশেষত্ব।সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। 

এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি পরিবারের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষিত থাকবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডি বা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে ওই পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। প্রান্তিক মানুষ এখন থেকে একটি কার্ডেই সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

আগামী জুন মাসের মধ্যেই পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হবে।সরকার পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যারা ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, নতুন কার্ড নিলে তাদের আগের ভাতার অঙ্ক সারেন্ডার করতে হবে। নতুন ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

সঠিক যোগ্যদের তালিকাভুক্ত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং চলছে।১৬ মে চাঁদপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করেছেন। জুন মাসে আরও ১৮টি উপজেলায় নতুন এই সেবা শুরু করা হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথড ব্যবহার করে অতিদরিদ্র পরিবার নির্বাচন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কার্ডের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না বলেও প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডকে একীভূত করার একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরির কাজও চলছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি চালু হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং উপকারভোগীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বাসস