মে ২১, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
অর্থনীতিকে গোষ্ঠীস্বার্থ ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি জানান, নাগরিক সেবাকে একীভূত ও ডিজিটাল করার জন্য সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
তার মতে, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ এখন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করাই প্রধান লক্ষ্য।আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, থিয়েটার, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে আসন্ন বাজেটে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখা হবে এবং বড় শহরগুলোতে ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বন্দর ও পরিবহন খাতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অতিরিক্ত চার্জ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে বিকল্প অর্থায়ন উৎস হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।কর কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও ‘ফ্ল্যাট রেট’ কর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।বড় কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনাধীন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন,
দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন