মে ২৩, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যার ফলে দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজছে বাংলাদেশ। এই সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছিল, তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাজারগুলো স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও নতুন এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবার শঙ্কা তৈরি করেছে। জনশক্তি রপ্তানির সিংহভাগ সৌদি আরবকেন্দ্রিক হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।তবে সংকট কাটিয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।
অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকরা দীর্ঘ ভোগান্তি কাটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশে গেছেন ৯ লাখ ৬৬ হাজার শ্রমিক।
পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১১ লাখ ২৬ হাজার এবং ১১ লাখ ৮১ হাজারে পৌঁছেছে, যা সরকারের লক্ষ্যের দিকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল সমীকরণ সব পরিসংখ্যানকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সরকার এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে নতুন বাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি জানান, নিয়মিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের জোর আলোচনা চলছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে রাষ্ট্র। এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে না। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান দক্ষ কর্মী তৈরির তাগিদ দিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যককেন্দ্রিক শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে বৈশ্বিক বাজারে দক্ষ জনবল সরবরাহ করতে পারে। অভিবাসীদের নিরাপত্তাও একটি বড় ইস্যু হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন