জুন ৮, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দিচ্ছে।সীমান্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে এবারের আলোচনার টেবিলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং পুশইন। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নন-লিথাল উইপন বা অস্ত্রহীন সীমান্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে। গত ৮ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোরছালিন ও নবীর হোসেন নামের এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার ঘটনাটি এবার জোরালোভাবে উত্থাপন করবে বাংলাদেশ।
এবারের সম্মেলনে পুশইনের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের শীর্ষে রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর থেকে প্রায় তিন হাজার ভারতীয়কে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি এই অপচেষ্টা প্রতিহত করে আসছে। গত ৩১ মে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তা ঠেকিয়ে দেয়। এরপর থেকে সমগ্র সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পুশইন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। সরকার কূটনৈতিক পর্যায়েও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সংবেদনশীল এই ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
তবে সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই অমিমাংসিত ইস্যুগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানাবে বাংলাদেশ। তাহিরপুর সীমান্ত থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাটি তারই প্রমাণ।ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত ফেনসিডিল ও মাদক তৈরির কারখানাগুলো বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি। ভারতের মাটিতে এই কারখানাগুলো সচল থাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধ করা বিজিবির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
যশোর, বেনাপোল, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশলে মাদক প্রবেশ করছে। অপরাধী চক্রের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছে বাংলাদেশ।পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপও এবারের আলোচনার অন্যতম বিষয়। জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রধান নাথান বমের ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান ও ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানাবে বিজিবি।
১৯৭৫ সালের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকার আওতায় এই বৈঠক প্রতি বছর দুইবার ঢাকা ও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার টেবিলে রক্তপাত থামানোর প্রতিশ্রুতি বারবার এলেও বাস্তবায়নের গতি এখনো ধীর। আজকের এই সম্মেলন সীমান্তে শান্তি ফেরাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন