শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দিলেন অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দিলেন অর্থমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ

দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য সর্বমোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেট পেশ করার সময় তিনি এই বিশাল জীবনরক্ষাকারী বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবারের এই বিপুল বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বা ৩৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় জানান যে আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের এই বিশাল বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। 

যার কারণে সাধারণ মানুষ নূন্যতম মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে প্রতিনিয়ত চরম হিমশিম খাচ্ছে। এই নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নতুন সরকার।নির্বাচনি ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরাঞ্চলের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। 

এর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘদিনের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে ৫ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাজেটে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও টিকা পৌঁছানোর জন্য দেশব্যাপী একটি টেকসই ও আধুনিক সামগ্রিক ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর ফলে সীমিত আয়ের মানুষের ব্যক্তিগত পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় বোঝা অনেক কমবে এবং সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে অর্থ বিভাগ।