শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

খুচরার অভাবে ৮০ পয়সা বেশিতে সিগারেট কিনতে হচ্ছে’ আমির হামজা

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

খুচরার অভাবে ৮০ পয়সা বেশিতে সিগারেট কিনতে হচ্ছে’ আমির হামজা

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের তামাক খাতের মূল্য কাঠামো ও রাজস্ব ফাঁকির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামী দলের এই সংসদ সদস্য জানান, বাজারে খুচরা পয়সার তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ ধূমপায়ীদের প্রতি শলাকা নিম্নমানের সিগারেট অন্যায্যভাবে ৮০ পয়সা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। 

এই অতিরিক্ত টাকা সম্পূর্ণভাবে খুচরা বিক্রেতাদের পকেটে চলে যাচ্ছে যা থেকে রাষ্ট্র কোনো সুনির্দিষ্ট রাজস্ব পাচ্ছে না।এর ফলে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই জনপ্রতিনিধি সরকারের বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নতসরকারের ঘোষিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। 

এর পরিবর্তে যদি সামগ্রিক বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতো, তবে দেশকে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝার মুখোমুখি হতে হতো না। এই সংকট কাটাতে তিনি নিম্নমানের সিগারেটের প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ ও খুচরা পয়সার অভাব দূর করতে অর্থমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নিম্নস্তরের একটি সিগারেটের সরকারি মূল্য ৬ টাকা ২০ পয়সা হলেও দেশের কোথাও তা ৭ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংসদ সদস্য আমির হামজার এই বক্তব্যের সমর্থনে সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থাও প্রায় অভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। গত ২২ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘তামাক খাতের কর ও নীতি সংস্কার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার বা পিপিআরসি জানায়, সিগারেটের খুচরা মূল্য নির্ধারণে বিদ্যমান অসামঞ্জস্যের কারণে সরকার বছরে ৪ হাজার  কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্নস্তরের ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৬২ টাকা হলেও বাস্তব বাজারে তা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মধ্যম স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে যা সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিপিআরসির বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন শলাকা। এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির ওপর প্রতি শলাকায় মাত্র ৮০ পয়সার ব্যবধান হিসাব করলে দেখা যায় বাজার থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা মূল রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ সম্ভাব্য অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না হওয়ায় দেশীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিদ্যমান কর কাঠামোকে বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে এই চুরি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজকর্মীরা।