আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও যাতায়াতের পথে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়ানো হয়েছে সাইবার নজরদারি।
র্যাবের প্রস্তুতিতে নাশকতা ও গুজব ঠেকাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।র্যাবের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে নজরদারি এবং অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার রোধে। কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে আলাদা পরিকল্পনা করেছে।
সেই অনুযায়ী সংবেদনশীল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে সোর্স ও ইনফরমার ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া-আসার রুটগুলোতে সাদা পোশাকে কাজ করছে গোয়েন্দা দল। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে যেসব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে তারা যাতে সংগঠিত হতে না পারে সে বিষয়েও র্যাব সতর্ক রয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়তি নজরদারি থাকছে। উদ্দেশ্য, কোনো দুষ্কৃতকারী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠী যাতে কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। শুধু অনুষ্ঠানস্থল নয়, জমায়েতের আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে র্যাব।
এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অনলাইন অপপ্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হলে সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগস্ট মাস ঘিরে অনলাইনে উত্তেজনা তৈরির নজির রয়েছে। গত বছর ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের জমায়েত ঠেকাতে তৎপর ছিল।
কোথাও বিস্ফোরক কিংবা বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অতীতে এই ধরনের কর্মসূচিতে বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ কেন্দ্রিক একটি পুরোনো ঘটনায় বোম্ব ডিসপোজাল বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের জনসমাগমে বিস্ফোরণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
র্যাব জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাশকতা আগেই শনাক্ত করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে কাজ করবে, তবে প্রয়োজন হলে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মাঠের কর্মসূচির সঙ্গে অনলাইন অপপ্রচারের যোগসূত্র ঠেকাতেই এবার র্যাবের এই বহুমুখী প্রস্তুতি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন