আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কৃষি কার্যক্রম ও সামগ্রিক অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার বর্তমানে মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছরের সারের মজুত পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রী কার্যক্রম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্যভাণ্ডার বা ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জন করা হয়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগে সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর পেঁয়াজ নষ্ট হতো, তবে বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত তা সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে তিন লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রেও আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী বছর থেকে হাওর অঞ্চলে রোপণের উপযোগী ‘ব্রি ১১৮’ নামক ধানের জাত প্রবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় এই জাতটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কৃষকের সেচ খরচ কমাতে দেশের সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন