সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে।
শুধু চারা রোপণ করলেই চলবে না, প্রতিটি গাছের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। সভায় জানানো হয়, চলতি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে মোট পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব নার্সারিতে উৎপাদিত প্রায় তিন কোটি ৮২ লাখ চারা এবং নিজস্ব তহবিল থেকে সংগৃহীত আরও প্রায় এক কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর বাইরে বেসরকারি সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ২৫ লাখ চারা রোপণ সম্পন্ন করেছে, যা ভৌগোলিক তথ্য প্রাপ্তিসাপেক্ষে মূল কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করে দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের অনাবাদি ও উপযোগী জমিতে সুপরিকল্পিতভাবে বনায়ন গড়ে তুলতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্যান্য কারণে কোনো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে দ্রুত নতুন চারা প্রতিস্থাপনের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির ব্যাপক চারা রোপণের মাধ্যমে চলতি বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ অর্জিত হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া রোপণ পরবর্তী চার বছর প্রতিটি চারার সুরক্ষায় পরিচর্যা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন