অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুরাই নয়, সমাজের প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মধ্যেও সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাদের শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রমে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর : অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে মন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ সমানভাবে পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে। শিশুদের কেবল পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ১৪টি ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী একটি বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। তাই শিশুদের যথাযথ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।
তিনি শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুসরণের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশে যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বর্তমান সরকারও শিশুদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের শিশুদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শিশু অ্যাকাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার অনুরোধ জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশিষ্ট আলোচকরা শিশুশ্রম নিরসন, অপুষ্টি দূরীকরণ, শিশুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান। এ ছাড়া শিশুদের সার্বিক কল্যাণে একটি বিশেষ ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাবও সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। সেমিনারে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির বোর্ড সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, শিশু অধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জেলার শিশু অ্যাকাডেমির শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন