সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে সন্তোষ জানালেন হিন্দু নেতারা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে সন্তোষ জানালেন হিন্দু নেতারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং তাদের কোনো অপ্রীতিকর সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলে তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারপ্রধানের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। একজন নাগরিকের যা অধিকার, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব।

মতবিনিময়কালে হিন্দু নেতারা বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হিন্দুদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ সম্ভব হয়েছে তা সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে করেছে। আরও কিছু বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সরকারের স্পষ্ট সদিচ্ছারই প্রমাণ বহন করে।

দেশের ঐতিহাসিক গণসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই আত্মত্যাগ করেছেন।

জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন ধর্মের ভেদাভেদ টানা হয়নি, তখন রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক অন্য কোনো কাজে ধর্মকে বিবেচনায় আনা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবাই মিলে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি সংগ্রামে সবার রক্ত মিশে আছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখার আহ্বান জানান তিনি।