অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ক্রমবর্ধমান সংকট ও বাড়তি উৎপাদন খরচের মুখে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষাবাদে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে আধুনিক প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ পাওয়ার টিলারের মতো হলেও বহুমুখী কৃষিযন্ত্র ভার্সেটাইল মাল্টি-ক্রপ প্লান্টার বা ভিএমপি দিয়ে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও বীজ বপনসহ একযোগে পাঁচ ধরনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সারিতে সরাসরি বীজ বোনা, পরিমাণমতো সার দেওয়া এবং ওপর দিয়ে নিখুঁতভাবে মাটি ঢেকে দেওয়ার কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।
যন্ত্রটির সাহায্যে কম খরচে ও সুনির্দিষ্ট লাইনে ধান, সরিষা, ভুট্টা ও বাদাম আবাদ করা যাচ্ছে। সোজা সারিতে বীজ বপনের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং ফলন ভালো হয়।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন দেশি-বিদেশি কৃষি গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। এতে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনকালে তারা ভিএমপি প্রযুক্তির ব্যবহার, সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি এবং ড্রাম সিডারের মাধ্যমে জমিতে ধানের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কম পানিতে অধিক ফলন নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে চলছে সমন্বিত গবেষণা।
শাখা প্রকল্পের অধীনে ২০২৪ সাল থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুর উপজেলায় এই মাঠ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। জলবায়ুর অভিঘাতে বরেন্দ্র এলাকায় ক্রমহ্রাসমান ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা, কম বীজ ও কম শ্রমে আধুনিক চাষাবাদ নিশ্চিত করা এবং সমলয়ভিত্তিক যন্ত্রনির্ভর সেবা কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুরো কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা করছে অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর)।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করতে গেলে জমি বারবার চাষ দিতে হয়, যাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল পোড়ে এবং বায়ুমণ্ডলে অধিক হারে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে। বিপরীতে, স্বল্প চাষের এই সংরক্ষণশীল কৃষিপ্রযুক্তিতে জ্বালানি খরচ কমে আসে এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধ হয়।
দুই বছরের মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সরাসরি বীজ বপন ও আধুনিক যন্ত্রনির্ভর চাষে ধানের বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উৎপাদন বেশ সন্তোষজনক। এতে চাষিদের সময়, কায়িক শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন