সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৪:০১ পিএম
বাংলাদেশ থেকে জুলাই বিপ্লবের পর যেসব আওয়ামী লীগ নেতা, আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদস্থ কর্তাব্যক্তি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেস তৈরি করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)।
গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত তৈরি করা এই ডেটাবেসে মোট ৭৩৪ জন বাংলাদেশির বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই তালিকায় ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেটাবেসে সংরক্ষিত এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাবতীয় তথ্যের একটি অংশ অনুসন্ধানে এসেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের অন্যতম কারিগর সাবেক নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান তার স্ত্রী সালমা সুলতানাকে নিয়ে কলকাতার ৬০ মিডল্টন স্ট্রিটে বসবাস করছেন। তার বর্তমান বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ডি-০০০১১৮৪১ এবং একটি ভারতীয় ফোন নম্বর (+৯১৯১৬৩৭৮৮৯৮০) ব্যবহার করছেন তিনি।
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখা এবং ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠানের আরেক কারিগর সাবেক মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বর্তমানে কলকাতা সদরে অবস্থান করছেন। তিনি মুখ্য সচিবের আগে শেখ হাসিনার পিএস-১ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে থাকা বর্তমান বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর ডিসি-৪০০৭৫৪১।
শেখ হাসিনার সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও কলকাতা সদরে রয়েছেন। ৫ আগস্টের পর পাল্টা ক্যু করার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকজন আমলাকে নিয়ে তিনি গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুবিধা করতে না পারায় তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
বহুল আলোচিত দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল এখন কলকাতার অভিজাত এলাকা সল্ট লেকে থাকছেন। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই সরকারি আইনজীবীর কাছে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর এ-১৫৭২৮৩৫২।
শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাবেক সচিব মো. রাশিদুল আলম সস্ত্রীক দেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বৈতরণী পার করার ক্ষেত্রে তিনি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই গণহত্যার অন্যতম প্রধান হোতা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান তার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে কলকাতা সদরে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি কলকাতায় বসে ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত।
এছাড়াও, সিএমপির সাবেক কমিশনার (অতিরিক্ত আইজি) কৃষ্ণপদ রায়, ডিআইজি মো: আনিসুর রহমান, ডিআইজি মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রিফাত রহমান শামীমসহ বহু এসপি ও অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন।
পলাতক এসব কর্মকর্তার বেশিরভাগকেই সরকার সাময়িক বরখাস্ত বা বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়েছে। এদের পাশাপাশি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও কলকাতায় রয়েছেন বলে খবর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন