অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৪:২২ পিএম
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) আমদানি করা গমের প্রথম চালানটি দেশে এসে পৌঁছেছে। ‘এমভি নর্স স্ট্রাইড’ নামের একটি জাহাজ মোট ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে শনিবার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে নোঙর করে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো ‘সরকার টু সরকার’ বা জিটুজি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করল। এই চুক্তির আওতায় দেশটি থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এই গম আমদানি কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে।
বন্দরে জাহাজটি পৌঁছানোর পর ইতোমধ্যে গমের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে জাহাজ থেকে গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই চালানের ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গমের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২২ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে ৮০ লাখ টনের বেশি গমের চাহিদা থাকলেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় মাত্র ১১ লাখ টনের মতো।
বিপুল এই ঘাটতি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশ তার মোট গম আমদানির অর্ধেকেরও বেশি (গত অর্থবছরে ৫৪ শতাংশ) রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করে। এরপরই ইউক্রেনের অবস্থান (১৪ শতাংশ)। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে গম আমদানির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানিতে প্রতি টনে ২৫ থেকে ৩০ ডলার বেশি খরচ হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টন গমের মূল্য ৩০২ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন