অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম
গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও তার ছায়া মাঝে মাঝেই ফিরে আসে। এ কারণে নতুন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল অডিটরিয়ামে ‘গুম: ফ্যাসিবাদী শাসনের নিকৃষ্ট হাতিয়ার’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই জোরালো আহ্বান জানান।
‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’ বইটির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও প্রচ্ছদ প্রকাশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। বইটি রচনা করেছেন গুম থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই মাত্র ছত্রিশ দিনেই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে। শত শত শহীদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে।
আজ বাংলাদেশ এক নতুন সম্ভাবনার মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, যারা একসময় গুমের শিকার হয়েছিলেন, আজ তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন। আমরা জানতাম না তারা কোথায় আছেন, কারণ ফ্যাসিবাদী শাসন তখন পুরো বাংলাদেশকেই একটি বন্দিশালায় পরিণত করেছিল। এখন দেশ বিচারবহির্ভূত হত্যা, দমন-পীড়নের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছে। অপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অন্যায়ের অবসান ঘটবে। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই দুই ঐতিহাসিক দলিলের আলোকেই রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, জার্মানিতে যেমন নাৎসি বাহিনী নিষিদ্ধ, ইতালিতে যেমন মুসোলিনির রাজনীতি নিষিদ্ধ, তেমনই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না।
যারা গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা গুম হওয়া অনেককে ফিরে পেলেও এখনও অনেকে নিখোঁজ। আমরা সকল গুমের বিচার চাই এবং সকল ‘কিলার জেনারেলদের’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার দাবি জানাই।
গুমবিরোধী সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর অন্যতম সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘আয়নাঘরের সাক্ষী’ বইটি শুধু একটি স্মৃতিকথা নয়, এটি বাংলাদেশের অন্ধকার অধ্যায়ের এক জীবন্ত সাক্ষী। বইটির লেখক ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান তার বক্তব্যে বলেন, হতাশ হওয়া চলবে না। আমি এখনও একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সংবিধানসম্মত বাংলাদেশ গঠনের আশা দেখি, যেখানে কেউ অন্যায়ের শিকার হবে না এবং বিচারহীনতার কোনো সংস্কৃতি থাকবে না।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন