মার্চ ৮, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
সমাজে নারী-পুরুষের সমতা রক্ষার বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস বা পুরুষ দিবস পালনের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হলেও বাস্তবচিত্র কিছুটা ভিন্ন। মূলত যেদিন নারী ও পুরুষ উভয়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে, সেদিনই এ ধরনের দিবসগুলোর প্রকৃত সার্থকতা পরিলক্ষিত হবে।
একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নারী ও পুরুষের অধিকারকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।বাংলাদেশে অনেক সময় নারীরা বিভিন্ন বৈষম্য, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন।
ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার মতো ঘটনাগুলো বারবার জনবিবেকের সামনে বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। এসব অপরাধের অন্যতম কারণ হলো ভুক্তভোগী নারীর সঠিক ও দ্রুত বিচার না পাওয়া। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সমাজে সহিংসতার চক্রকে আরও দীর্ঘায়িত করে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
অনেক সময় পুরুষরাও পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক হামলা, মানসিক নিগ্রহ কিংবা সামাজিক অপমানের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু প্রচলিত সামাজিক প্রথা ও লোকলজ্জার ভয়ে অনেক সময় এসব ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। ফলে পুরুষরাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।এই বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে সমাজে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এমন একটি সমাজ প্রয়োজন যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকার সমানভাবে স্বীকৃত ও সুরক্ষিত থাকবে।
দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে এমনভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন যেন যে কোনো মানুষ নির্যাতনের শিকার হলে পরিচয় নির্বিশেষে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পায়। নারীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ আইন থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য একটি সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ আইনি কাঠামো প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী আইনই নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকারকে একই সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পারে।সামাজিক সহিংসতার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা পরকীয়ার মতো বিষয়গুলোও অনেক সময় বড় ভূমিকা রাখে। এসব কারণে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ভাঙন দেখা দেয় যা কখনও কখনও চরম সহিংসতার রূপ নেয়।
তাই শুধু কঠোর আইন দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতার চর্চা। পারস্পরিক সম্মানের অভাবই বর্তমান সমাজকে নানা সংকটের দিকে ধাবিত করছে। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ তখনই গড়ে উঠবে যখন নারী বা পুরুষ কোনো পরিচয় কারও জন্য বৈষম্যের কারণ হবে না। সবাই যখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাবেন, তখনই আন্তর্জাতিক দিবসগুলো একটি সমতাভিত্তিক সমাজের প্রকৃত প্রতীক হয়ে উঠবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন