রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

নির্বাচন পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের আদলে রাষ্ট্র চান আমীর খসরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম

নির্বাচন পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের আদলে রাষ্ট্র চান আমীর খসরু

এখন থেকেই নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের আদলে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সম্প্রতি আদালতের যে রায় এসেছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তিনি উল্লেখ করেন, কেয়ারটেকার সরকারের জন্য তার দল ও নেতাকর্মীরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বহু প্রাণ দিয়েছেন,

গুম-খুন হয়েছেন এবং ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার একটি অনির্বাচিত সরকারের কারণেই সবকিছু ধ্বংস হয়েছে এবং দেশে এখনো ১৪-১৫ মাস ধরে আরেকটা অনির্বাচিত সরকার চলছে। তার মতে, কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রবর্তন হওয়াটা তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যদিও কেয়ারটেকার সরকার আগামী নির্বাচন থেকে শুরু হবে, তবুও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এটি মাথায় রেখে এখন থেকেই কেয়ারটেকার সরকারের আদলে পরিচালিত হতে হবে। তিনি মনে করেন, এটাই বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান চাহিদা।

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, যারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। এজন্য তিনি তাদের কেয়ারটেকার সরকারের আদলে এখন থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করতে বলেন। তার পরামর্শ, এই সময়ে কোনো বড় বা অন্য ধরনের সিদ্ধান্তে যাওয়া তাদের উচিত হবে না; বরং পুরোপুরি নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করে কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন,

স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করার পর দেশের মানুষের মধ্যে যে বিশাল পরিবর্তন, প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তাকে যদি রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো ধারণ করতে না পারে, তবে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ চালিয়েছিলেন, সেই ধারণাগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে।

তিনি জানান, সেই ফাউন্ডেশনের উপর ভিত্তি করে তারা আগামী দিনের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, নারী ও শিশুসহ সব খাতের জন্য পরিকল্পনা প্রায় সমাপ্ত করে এনেছেন। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক নাগরিককে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের এবং পরিবর্তনের অংশীদার হতে হবে এবং এর সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বর্তমানে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখার কথা উল্লেখ করে জানান, তারা ইচ্ছে করেই এই কাজটি করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো রাজনীতিবিদদেরকে জনগণের প্রশ্নোত্তর ও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা, যা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতির ভিত্তি বলে তিনি মনে করেন।