নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১০:৩১ পিএম
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক বাউল শিল্পী আবুল সরকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটি আবুল সরকারের বক্তব্য এবং তার জামিনের দাবিতে মানববন্ধন করা ব্যক্তিদের ওপর হামলা—এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে দলের ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেক রেজার সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, বাউল আবুল সরকারের বক্তব্যের কিছু অংশ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে প্রবলভাবে আঘাত দিয়েছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।এনসিপি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা মনে করে বিচারিক প্রক্রিয়াতেই এই বিষয়ে সমাধান হওয়া উচিত এবং তারা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বিশ্বাসী। তারা কোনোভাবেই আবুল সরকারের বক্তব্যকে বৈধতা দেয়নি এবং ধর্ম অবমাননাকে মতপ্রকাশের অধিকার বলে না। তাদের অবস্থান হলো, ধর্ম অবমাননা আইনত অপরাধ এবং এর বিচার তারা চায়।
অন্যদিকে, এনসিপি জোর দিয়ে বলে, যেকোনো গোষ্ঠীর অহিংস উপায়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা মানববন্ধন করার অধিকার রয়েছে। তাদের ওপর বলপূর্বক বাধা প্রদান ও হামলা তাদের রাজনৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। এনসিপি কেবল সেই হামলারই নিন্দা জানিয়েছে।সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে এনসিপি জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আইনের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং ধর্ম অবমাননা আইনত নিষিদ্ধ। তারা স্পষ্ট করে বলে, যেসব সাংস্কৃতিক বা আধ্যাত্মিক চর্চা আইনের লঙ্ঘন করে না, রাষ্ট্রকে কেবল তাদেরই নিরাপত্তা দিতে হবে।
এনসিপি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, এনসিপির অবস্থান ইসলাম বা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলছে এনসিপি নাকি ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তা ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক অপপ্রচার। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রাখা, এটাই এনসিপির নীতি। একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও এনসিপির অবস্থান দৃঢ়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের সময় ইসলামবিদ্বেষ একটি নির্যাতনের অস্ত্র ছিল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধেই জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ ছিল। এনসিপি সেই ঐতিহাসিক অবস্থানেই অটল।
এনসিপি দেশের দায়িত্বশীল মূলধারার আলেমসমাজের ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। তাদের মতে, আলেমসমাজ যুগ যুগ ধরে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও শান্তিপূর্ণ দাওয়াতের মাধ্যমে সমাজকে ন্যায়ের পথে রেখেছেন। এনসিপি তাদের এই শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক দাওয়াতি ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। এনসিপি মনে করে, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার আদালত করবে, জনতা নয় এবং আইন হাতে তুলে নেওয়া ইসলামেরও শিক্ষা নয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন