ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৫৯ পিএম
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের দেওয়া ব্যক্তিগত গানম্যান বা নিরাপত্তারক্ষী প্রদানের প্রস্তাব বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সাদিক কায়েম স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ যখন এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তখন কেবল ছাত্র নেতৃত্বের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণ করা তার কাছে ইনসাফপূর্ণ মনে হচ্ছে না।
সাদিক কায়েম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার গানম্যান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকেও সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তারক্ষী নেওয়ার বিষয়ে অবহিত করা হয়। তবে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ ও ন্যায্য সমাজব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং বিভিন্ন দপ্তরে ফ্যাসিবাদী শক্তির মদদে জননিরাপত্তা বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে; একদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের হাতে ওসমান হাদির মতো বিপ্লবীরা শহীদ হচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অবস্থায় এই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্রহণ করাকে তিনি নৈতিকভাবে ভুল মনে করছেন। সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন যে, কেন এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি কার্যকর করে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
সাদিক কায়েমের মতে, নিরাপত্তা যদি কেবল কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা কখনও ইনসাফপূর্ণ হয় না। দেশের আপামর মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণই ছিল বিপ্লবের মূল অঙ্গীকার। তাই দেশের ছাত্র-জনতা যতক্ষণ পর্যন্ত অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে, ততক্ষণ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিশেষ সুবিধা নেওয়াকে তিনি সমীচীন মনে করছেন না। তার এই দৃঢ় অবস্থান ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন