রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ছাত্রশিবিরের বিদায়ি সভাপতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ছাত্রশিবিরের বিদায়ি সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শহীদদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন-২০২৫ এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান তরুণ সমাজের মধ্যে যে নতুন আদর্শিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে তা-ই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঠিক দিকনির্দেশনা ও গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন সাতচল্লিশের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং একাত্তরের স্বাধীনতার পরেও দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বিশেষ করে একাত্তর পরবর্তী সময়ে একদলীয় শাসন ও ভিন্নমত দমনের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে তরুণদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং একাত্তরের চেতনাকে পুঁজি করে মাফিয়াতন্ত্র ও গুম-খুনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল।জাহিদুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে বিগত সময়ে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরকে মানবিক সত্তাহীন হিসেবে উপস্থাপন করে হত্যার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।

শুধুমাত্র শিবির ট্যাগ দিয়ে অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে এবং দাড়ি-টুপিকে জঙ্গিবাদের প্রতীক বানানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধকে দমিয়ে রাখার প্রতিবাদেই চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-বিস্ফোরণ ঘটেছে যা ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করেছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং উদ্বোধক ছিলেন শহীদ মুনতাসির রহমান আলিফের বাবা সৈয়দ গাজিউর রহমান।