জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে তিনি আজ পঞ্চগড়ে কোনো সাধারণ বক্তৃতা দিতে আসেননি বরং উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার সাক্ষী দিতে এসেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা সদরের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব ও পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এই অঞ্চলকে দেশের কলিজার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে মাত্র পাঁচ বছরই যথেষ্ট এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
নির্বাচনী এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গের বেকার যুবকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলবে এবং পঞ্চগড়ও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিদেশে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। উত্তরবঙ্গকে শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন প্রকাশ করে তিনি পঞ্চগড়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন।জামায়াত আমির ভোটারদের উদ্দেশে বলেন যে তাদের কাছে কোনো অলীক কার্ড নেই বরং দেশের মানুষই তাদের আসল শক্তি। তিনি বলেন এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার স্লোগান শোনা গেলেও এবার তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ইনসাফের আওয়াজ তোলা হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন জামায়াত সংকটের সময় দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে এবং পুরোনো দুর্বৃত্তরা যাতে নতুন কোনো পোশাকে ফিরে আসতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন