জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে তারা জনগণের আমানত লুট করবেন না।
তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম—জনগণের সম্পদের ওপর আমরা হাত দেব না। আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। তিনি দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে প্রতিনিধিদের জনগণের ‘চৌকিদার’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
মেহেরপুরের মতো ছোট জেলায়ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন করব, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব যাতে তাদের আর মানুষের পকেট কাটতে না হয়।আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি বা স্বাধীনতা, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। আমাদের প্রথম কাজ হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা।” ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের ডাক দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিগত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে কেউ দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি ও লুটপাটের দায় এড়াতে পারবে না।
বেকার সমস্যা সমাধানে জামায়াত আমিরের পরিকল্পনা ভিন্নধর্মী। তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দেব না; কারণ ভাতা দিলে অলসতা ও বেকারত্ব বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, প্রতিটি তরুণের জন্য কাজের ব্যবস্থা করব।” তিনি দেশকে একটি ফুলের মতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ বোধ করবে। তার এই ‘কসম’ নেওয়া বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন