জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মহসিন এক অভিনব নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে যদি তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন তবে জনগণের কাছে নিজের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘এমপি সাহেব হিসাব দাও’ নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি চালু করবেন।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে সরাসরি জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
নিজের নির্বাচনি দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মো. মহসিন জানান যে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শুধু জাতীয় সংসদে গিয়ে বসে থাকবেন না বরং নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নে আসা সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি পাই-পয়সার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। কোন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কোনটি বাকি আছে এবং কেন হয়নি—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সরাসরি ভোটারদের কাছে দেবেন তিনি। তার মতে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। তিনি মনে করেন জনগণের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।
বাঞ্ছারামপুরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এতদিন ধরে প্রচলিত যে ‘ক্ষমতার রাজনীতি’ চলে আসছে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই মহসিন এই কৌশল নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে তার লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। জনগণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা নিয়মিত অবহিত করার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সঙ্গে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে চান। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে মহসিনের এই ‘এমপি সাহেব হিসাব দাও’ স্লোগানটি এখন বাঞ্ছারামপুরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন এই ধরনের উদ্যোগ অন্য প্রার্থীদের ওপরও এক ধরণের নৈতিক চাপ তৈরি করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন