রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শুধু বগুড়া নয়, ভাবতে হবে পুরো দেশ নিয়ে: তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

শুধু বগুড়া নয়, ভাবতে হবে পুরো দেশ নিয়ে: তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নিজের এলাকায় ফেরায় বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তারেক রহমান জানান যে নিজের ঘরে ফিরে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করার ভাষা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন এবং কিছুটা ইমোশনাল হয়ে পড়েছেন। 

বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে আজ তার আপনাদের দেওয়ার মতো কিছু নেই বরং নিজের সন্তান হিসেবে তাদের কাছে দোয়া সহযোগিতা এবং সমর্থন চাইতে এসেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে দীর্ঘ রাজনীতির এই পথচলায় জীবনসঙ্গিনীর নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা না থাকলে তিনি আজ এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে দেশকে গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারুণ্যের জয়গান গেয়ে তিনি স্লোগান দেন করব কাজ গড়ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা আমাকে নিয়ে যেন গর্ব করতে পারেন এবং আমাকে নিয়ে যেন আপনারা অহংকার করতে পারেন সেই দোয়া করবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কেবল নিজের জেলা নিয়ে ভাবলে চলবে না বরং বগুড়াবাসীকে এখন সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা পোষণ করতে হবে। বগুড়াকে তিনি একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এবং ক্ষমতায় গেলে সারা দেশের ৬৩টি জেলাকে এই আদলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তারেক রহমান আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন যে আল্লাহ চাইলে সরকার গঠন করলে সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। তিনি চান না বগুড়া জেলা নিয়ে কোনো নেতিবাচক বিতর্ক তৈরি হোক যে কেবল একটি নির্দিষ্ট জেলার হওয়ার কারণেই মানুষ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে অন্য কেউ যেন আমাদের বিতর্কিত অবস্থানে ফেলতে না পারে যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে আর আমরা পাচ্ছি না। তবে বগুড়ার যে ন্যায্য অধিকার রয়েছে তা অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। 

অতীত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ গ্যাস লাইন এবং প্রশস্ত রাস্তার মতো যে কাজগুলো ২০০১ থেকে ২০০৫ মেয়াদে হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় আকারে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রচারণা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন নিয়ে তারেক রহমান বলেন যে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করবে এই ব্যালট যুদ্ধ। জেলা সভাপতি রেজাউল করীম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

বগুড়ায় জনসভা শেষ করে শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরবর্তীতে রংপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। উত্তরবঙ্গের এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক নতুন ধরণের রাজনৈতিক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।