ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিত্র দল বিএনপির নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় ন্যাশনাল সিভিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জোটের প্রার্থী নাহিদের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি বিএনপির নাম উল্লেখ না করলেও দলটির সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে একদিকে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার কথা বলা হচ্ছে অথচ অন্যদিকে ঋণখেলাপি ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জামায়াত আমিরের মতে ঋণখেলাপিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তারেক রহমান বারবার বলছেন যে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করা হবে এবং এটিই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তারেক রহমানের এই বক্তব্যের রেশ ধরেই ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন যে আদর্শিক অবস্থান যদি দুর্নীতি দমনের পক্ষেই হয় তবে কেন প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নির্বাচনী মাঠে নামানো হলো। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে জনগণ এখন অনেক সচেতন এবং তারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষ চাদাঁবাজ ও দুর্নীতিবাজদের ব্যালটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখিয়ে প্রত্যাখান করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাড্ডার এই জনসভায় জামায়াত আমির আরও বলেন যে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে মেধা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে দুর্নীতির চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে তাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা নয় বরং একটি শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। জনসভায় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দুই প্রধান মিত্রের মধ্যে এমন বাগযুদ্ধ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন