রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ ইসির, কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ ইসির, কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন যে এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। 

যদি কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে চায় বা এতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তবে এ দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তা রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের দিনটি হওয়া উচিত গণতন্ত্রের উৎসব উদযাপনের দিন। সাধারণ মানুষ সেদিন গর্বের সাথে ভোটার লাইনে দাঁড়াবেন এবং নিজের পছন্দের স্বাধীনতা উপভোগ করবেন। এমনকি ভোটের সেই স্মৃতি ছবির মাধ্যমে ধরে রাখাও নাগরিকের একটি স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা। 

কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে মানুষের সেই স্বতঃস্ফূর্ততায় বাধা সৃষ্টি করছে যা কারো ইশারায় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের ষড়যন্ত্র কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে প্রয়োজনে এই অর্জিত অধিকার আবারও লড়াই করে রক্ষা করা হবে।এর আগে গত রোববার রাতে নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায় যে ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ সীমানার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। 

ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্টের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।ডা. শফিকুর রহমান তার বার্তায় আরও বলেন যে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। 

সুতরাং ভোটের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। তিনি নির্বাচন কমিশনকে তাদের হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ৫টি প্রধান রাজনৈতিক জোটসহ ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে।