ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল করতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে বিরোধী দল হিসেবে কোণঠাসা থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিএনপি নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে যা আগের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের নিরঙ্কুশ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে ২৯২টি আসনে লড়াই করা বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এবার তরুণ বা জেন-জি ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াত ও তাদের সহযোগী নতুন দলগুলোর প্রতি আগ্রহী।
মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই তরুণ প্রজন্ম যাদের ভোটই নির্ধারণ করবে সংসদের পরবর্তী আসন বিন্যাস। দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক শক্তির কারণে জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এই নির্বাচনের ফলাফল বড় প্রভাব ফেলবে। রয়টার্সের মতে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে এবং বেইজিংয়ের প্রভাব বাড়ছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তা ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে কারণ ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সাথে দলটির তিক্ত সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে তারেক রহমান জানিয়েছেন তার দল ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সবার সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারতের দিল্লির কূটনীতিক সূত্রগুলো পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে কারণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বেইজিং ও ইসলামাবাদের সাথে ঢাকার যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনমত জরিপে দেখা গেছে যে ভোটাররা এবার ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যদিও তার দল এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থায় নেই। বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসি জানিয়েছেন যে এখনো ভোটারদের একটি বড় অংশ কোনো পক্ষ নেবে তা স্থির করেনি যা শেষ মুহূর্তে বড় কোনো চমক তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন