সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিদ্রোহীদের কারণে যেসব আসন হারাল বিএনপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

বিদ্রোহীদের কারণে যেসব আসন হারাল বিএনপি

বিদ্রোহীদের দাপটে আসন ক্ষতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু বেশ কিছু আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহীদের কারণে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। এখানে মূল বিষয়টি হলো যে নির্বাচনে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। 

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল ফলাফলে যেখানে অনেকগুলো সুনিশ্চিত আসন দলটির হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে দলের সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক জায়গায় ব্যক্তির প্রভাব বেশি কাজ করেছে। 

উদাহরণ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের কথা বলা যেতে পারে যেখানে আলোচিত নেত্রী রুমিন ফারহানা বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোট শরিক প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন যা দলটির জন্য একটি বড় লোকসান হিসেবে গণ্য হচ্ছে। 

ঠিক একইভাবে দিনাজপুর ৫ আসনেও এ জেড এম রেজওয়ানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন যেখানে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। এই ধরনের পরিস্থিতি ময়মনসিংহ ১ আসনেও দেখা গেছে যেখানে মোহাম্মদ সালমান ওমর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো যে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এসব নেতাদের বহিষ্কার করা হলেও ভোটের মাঠে তাদের জনপ্রিয়তা বিএনপির মূল প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি প্রমাণিত হয়েছে। 

কিশোরগঞ্জ ৫ আসনেও একই নাটকীয়তা দেখা গেছে যেখানে শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রতীক না পেয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র লড়ে জয়ী হন। কুমিল্লা ৭ আসনেও এলডিপি নেতা রেদোয়ান আহমেদকে ধানের শীষ দেওয়া হলেও সেখানকার সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম কলস প্রতীক নিয়ে জয়ী হন যা দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। চাঁদপুরের ৪ নম্বর আসনেও মো আবদুল হান্নান এবং টাঙ্গাইল ৩ আসনে মো লুৎফর রহমান খান আজাদ বিদ্রোহী হিসেবে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। 

এই যে নিজেদের ঘরের কোন্দল এটি কেবল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ী করেনি বরং অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য দলকেও জয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। যদিও বিএনপি সামগ্রিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কিন্তু এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে হারানো আসনগুলো নিয়ে দলের ভেতরে এখন নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই আসনগুলো যদি দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থাকত তবে বিএনপির জয়ের ব্যবধান আরও অনেক বড় হতে পারত। আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে এই বিদ্রোহী বিজয়ীরা কতটুকু সমর্থন দেবেন তা নিয়েও এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা চলছে।