ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর নিজেদের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই বৃহস্পতিবার ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো যে কেবল কথার কথা নয়, বরং তা বাস্তবায়নে নতুন সরকারের আন্তরিকতা এসব পদক্ষেপের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এবারের নির্বাচনে সরকারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা। ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে পঞ্চাশ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য এই কার্ড ইস্যু করা হবে। মূলত পরিবারের নারী প্রধানদের নামেই এই কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে পনেরো সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদেরও এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের উপযুক্ত ডিজাইন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি ঠিক করতে এই কমিটি কাজ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুবিধাভোগীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে ডেটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজের মধ্যে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা হবে। আগামী চব্বিশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা যায়। এই কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা প্রদান করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম না হয়, সেজন্য আমলাদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদেরও তদারকিতে রাখা হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।একই দিন দুপুর দুইটায় আগামী পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী, খাল ও জলাধার খনন কর্মসূচি নিয়ে আরও একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, প্রতি বছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।
কৃষি ও বন মন্ত্রণালয় থেকে চারা সংগ্রহের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করা হবে। মে মাসের মধ্যেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নদী ও বাঁধের ধার, চর, পাহাড়ি অঞ্চল এবং উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ এলাকাসহ আটটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে এসব গাছ লাগানো হবে। এছাড়া ইশতেহার বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।
সরকারের এমন দ্রুত ও কর্মচাঞ্চল্যমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম জানিয়েছেন, নতুন সরকারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এই পদক্ষেপগুলোকে বাস্তবমুখী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তার মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে ইশতেহারগুলো কেবল ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল ছিল না। বরং এগুলো দেশের মানুষের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রণীত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অংশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন