ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ ফেসবুক স্ট্যাটাস মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী টুকু মন্তব্য করেন যে, বাংলাকে মায়ের ভাষা হিসেবে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি পরিহার করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই শব্দটি আমাদের নিজস্ব ভাষার অংশ নয় এবং এর সাথে বাংলা সংস্কৃতির কোনো সম্পর্ক নেই।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না মাননীয় মন্ত্রী? তার এই প্রশ্নাত্মক স্ট্যাটাসটি নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার লাইক এবং শত শত শেয়ারে সয়লাব হয় পোস্টটি। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীরাও আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অনেকে বিষয়টিকে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হিসেবেও দেখছেন।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার বক্তব্যে নিজের ভাষা ও সম্পদকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ইনকিলাব মঞ্চের সাথে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, এসব সত্য কথা বলার জন্য তাকে ভারতীয় দালাল হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হতে পারে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি ইনকিলাব স্লোগানকে অন্য দিকের ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করেন। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আসিফ মাহমুদ ছাড়াও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মোহাম্মদ শিশির মনির, সাদিক কায়েম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত অনেক নেতা তাদের প্রোফাইলে প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভাষাগত চেতনা এবং স্লোগানের ব্যবহার নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আসিফ মাহমুদের দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বড় ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে, জাতীয় স্লোগান ও ভাষা চেতনা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবল আবেগ কাজ করছে। দিনভর চলা এই ভার্চুয়াল বিতর্কটি গুগলের ট্রেন্ডিং তালিকায় স্থান পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন