সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত `টার্গেট` করে শুরু করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের একটি নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান এই দাবি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
পেন্ডিং তালিকার ভিত্তিতেই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে দুদক সচিব তা সরাসরি আলোচনা থেকে বিরত রাখেন। তিনি জানান, আজকের নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে গিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিগত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে কমিশন কার্যকর না থাকায় বিপুলসংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় জমে ছিল। বর্তমানে সেই পেন্ডিং বা জমাকৃত তালিকার ক্রমানুসারে নথিপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সঠিক সময়ে সব তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
অন্যান্য সাবেক উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব স্পষ্ট করেন যে, কাউকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে বা পক্ষপাতমূলকভাবে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা আইনগত প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো সাবেক উপদেষ্টার নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করলেও তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট যে কেউ আইনের আওতায় আসবেন।
এর আগে দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণের বেশ কিছু নতুন অভিযোগ সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, নিজ উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক বরাদ্দ এবং ঢাকা ওয়াসা ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে অনুসন্ধান দল।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল বর্তমানে এই অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছে। এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে `মিডিয়া ট্রায়াল` ও রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রক্রিয়াগতভাবে তৎকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ নিয়মে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন