রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বুয়েটে কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের মুখে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

বুয়েটে কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের মুখে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি এবং কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

তিনি জানিয়েছেন যে বুয়েটের অরাজনৈতিক চরিত্রের প্রতি তাঁর পূর্ণ সম্মান রয়েছে এবং তিনি কেবল আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে তারাবির নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বিবৃতিতে বলেন, বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে নামাজ পড়তে যান। সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে জানানো হয় যে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুরোধ মেনে নেন এবং কেবল শহীদ আবরার ফাহাদসহ বিডিআর বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। 

তিনি আরও দাবি করেন যে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো মিডিয়া ব্রিফিং বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তিনি পরিচালনা করেননি। বরং নামাজ শেষে বুয়েট সীমানার বাইরে পলাশী মোড়ে এসে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর সাথে থাকা কেউ স্লোগান দিলে তিনি নিজেই তাদের থামিয়ে দেন বলে উল্লেখ করেন।অন্যদিকে আবরার ফাইয়াজ এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে শত শত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং জীবনের বিনিময়ে বুয়েটকে রাজনীতিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছেন। ফাইয়াজের মতে, নামাজ পড়তে আসা কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু নামাজের পর স্লোগান বা মিছিল দেওয়ার জন্য দেশের অন্য যেকোনো মসজিদ ব্যবহার করা যেত। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বুয়েটের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সমালোচনার জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন যে তিনি বুয়েটের কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের খবর শুনে তিনি মন্তব্য করেন যে যদি তাঁর কাজগুলো অপরাধ হয়ে থাকে, তবে শিক্ষার্থীরা তাঁকে শাস্তি দিতে পারেন। তিনি দাবি করেন যে অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্তকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডে সেটি প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন যে ছাত্ররা চাইলে তাঁর বিচারের মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রমের সীমা নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।