রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘জামায়াত-এনসিপির হটকারিতায় আ’লীগ ফিরবে’: রাশেদ খান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

‘জামায়াত-এনসিপির হটকারিতায় আ’লীগ ফিরবে’: রাশেদ খান

রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদ খান জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন যে, জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক হটকারিতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে আবারও আওয়ামী লীগ ফিরে আসার পথ প্রশস্ত হতে পারে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বর্জন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করেই তিনি এই মন্তব্য করেন।রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করার প্রস্তাবটি ছিল মূলত জামায়াতে ইসলামীর।

 বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদরা এই রাষ্ট্রপতির কাছেই শপথ গ্রহণ করেছেন। এমনকি জামায়াত ও এনসিপির চাপেই এই রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 

রাশেদ খানের মতে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে উপদেষ্টারা তাকে এক প্রকার সাংবিধানিক বৈধতা দিয়ে গেছেন।সাবেক এই ছাত্রনেতা আরও বলেন যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বয়কট করার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি মূলত রাষ্ট্র ও সংসদকে অকার্যকর করার পথে হাঁটছে।

 

তিনি মনে করেন, নির্বাচনের সময় জামায়াত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নমনীয় অবস্থানে থাকলেও এখন তারা অনর্থক হট্টগোল সৃষ্টি করছে। তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাশেদ খান তার বক্তব্যে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন যে, উপদেষ্টাদের ভুলের খেসারত দেওয়ার জন্য বিএনপির ওপর চাপ থাকতে পারে, তবে তা অবশ্যই পরিমিত হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, সংসদ বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতীয় ঐক্যকে বিনষ্ট করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।